সর্বশেষ ঐশী ধর্ম ইসলাম মানুষকে সুখ-শান্তি ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। ইসলামের গঠনমূলক ও পরিপূর্ণ শিক্ষা সময়ের গন্ডিতে আবদ্ধ নয় এবং সকল মানুষের জন্যেই কল্যাণ-নিশ্চিতকারী। ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, মানুষকে সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে। চরম পন্থা পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নামই ভারসাম্যতা অর্থাৎ কোন ক্ষেত্রেই সীমা লংঘন করা যাবে না। মানুষের বিবেক ও প্রকৃতির সাথে এর কোন বিরোধ নেই বরং বিবেকবান ও চিন্তাশীল মানুষ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে সব সময় ভারসাম্য রক্ষা করে চলে, কখনোই সীমা লংঘন করে না। বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেয় না। যারা বিবেককে কাজে লাগায় না তারাই সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট করছে। আসলে তারা অজ্ঞ। আমিরুল মোমেনিন হযরত আলী (আঃ) এ সম্পর্কে বলেছেন, অজ্ঞরাই চরমপন্থী।
সৃষ্টি জগতের সর্বত্রই ভারসাম্যতার নিদর্শন সুস্পষ্ট। কারণ আল্লাহতায়ালা তার সৃষ্টিতে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন এবং সমস্ত কিছুতেই ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। মহাবিশ্বের কোনো একটি জিনিসও বিশৃংখল ও অপরিমিতভাবে সৃষ্টি করা হয়নি। পবিত্র কোরআনের সুরা আর রহমানের ৭ ও ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদন্ড।যাতে তোমরা সীমালংঘন না কর তুলাদন্ডে।"
আল্লাহ যেমনিভাবে সৃষ্টিতে ভারসাম্য রক্ষা করেছেন, তেমনি সব কিছুতেই ভারসাম্য রক্ষার ব্যবস্থা রেখেছেন। ইসলাম ধর্মের শিক্ষা ও দিকনির্দেশনাগুলোও ভারসাম্যতার উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামী শিক্ষায় বিবেক ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং ভারসাম্য রক্ষা ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কাছেই ইসলামে চরমপন্থার কোন স্থান নেই। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজে সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। রাসূল (সাঃ) একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে, যুদ্ধ ক্ষেত্রে, শান্তি প্রতিষ্ঠায়, এবাদত-বন্দেগীতে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন এবং কখনোই চরমপন্থা অবলম্বন বা বাড়াবাড়ি করেননি। রাসূলের আহলে বাইতের সদস্যরাও সর্বদা ভারসাম্য রক্ষা ও সীমা লংঘন না করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সূরা বাকারার ১৪৩ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, " এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি,যাতে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্য এবং রাসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য।"
কাজেই আল্লাহতায়ালা মুসলমানদেরকে ভারসাম্যপূর্ণ জাতি হিসেবে দেখতে চায়। কোরানের অপর এক সূরায় আমরা দেখতে পাই লোকমান (আঃ) তার পুত্রকে বলছেন, "ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ কর"। রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন সময় মুসলমানদেরকে কথায়,কাজে ও আচরণে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সব সময় মধ্যপন্থা অবলম্বনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আসলে ভারসাম্যতা ইসলামের একটি মৌলিক বিষয়। সীমালংঘন ও বাড়াবাড়িকে ইসলাম কখনোই প্রশ্রয় দেয় না,তা যদি এবাদতও হয়। যেমন ধরুন, ইসলাম ধর্মে আল্লাহর এবাদতের উপর ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কারণ এবাদত হচ্ছে, আধ্যাত্মিক পূর্ণতা ও পরকালীন কল্যাণ লাভের মাধ্যম। কাজেই আল্লাহতায়ালা এবাদতের ক্ষেত্রে অলসতা ও গাফিলতি না করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এক্ষেত্রেও বাড়াবাড়ি না করে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলেছেন। এর অর্থ দাড়ালো, এবাদতের ক্ষেত্রেও বাড়াবাড়ি করা যাবেনা। এবাদত করতে গিয়ে অন্যান্য দায়িত্ব ভুলে যাওয়া যাবেনা। সমাজে বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষকে কাজ করতে হবে, আয়-উপার্জন করতে হবে। যারা সব কিছু ভুলে রাতদিন শুধু এবাদতে মশগুল থাকে,তাদের কাজও পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয়। খেয়াল রাখতে হবে, এবাদত যাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পথে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায়। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এ সম্পর্কে বলেছেন, এবাদতকে বান্দাদের উপর বিরক্তিকর পন্থায় চাপিয়ে দিও না।
ইসলাম ধর্ম আধ্যাত্মিকতা ও পরকালীন জীবনের পাশাপাশি পৃথিবীর সুখ-শান্তি ও কল্যাণের উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইসলাম এ ক্ষেত্রেও ভারসাম্যতার কথা বলে। এমনটি নয় যে, দুনিয়াতে সুখ-শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিতভাবেই আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও কল্যাণের পথে বাধা সৃষ্টি করবে। ইসলামের দৃষ্টিতে, এ দুটি সাংঘর্ষিক কোন বিষয় নয় বরং যে কোন ভাবেই হোক এই দুইয়ের মাঝে অবশ্যই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সূরা আল কাস্সাসের ৭৭ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, "আল্লাহ্ তোমাকে যা দান করেছেন, তার মাধ্যমে পরকালের গৃহ ও কল্যাণ অনুসন্ধান কর এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেও না।"
রাসূলের পবিত্র বংশধর ইমাম সাদেক (আঃ) এ সম্পর্কে বলেছেন, যারা পরকালের কারণে দুনিয়াকে পুরোপুরি ত্যাগ করেছে এবং দুনিয়ার স্বার্থের কারণে আখেরাতকে উপেক্ষা করেছে,তাদের কেউই আমাদের অনুসারী নয়।
বর্তমানে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে,যা সামাজিক সংকটের জন্ম করছে। পাশ্চাত্যে লাগামহীন যৌন সম্পর্ক চিন্তাশীল ও বিবেকবানদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। অতীতে পাশ্চাত্যে গীর্জার নিয়ন্ত্রকরা নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈধ যৌন সম্পর্ক বা বিবাহকেও গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করতো। যে কারণে গীর্জার পাদ্রী ও নানরা বিবাহ করার অনুমতি পায় না। তাদের এই কাজটিও ছিল এক ধরনের চরমপন্থা। কিন্তু ইসলাম ধর্ম এক্ষেত্রে বাস্তব সম্মত ও ভারসাম্যপূণ্য দিক নির্দেশনা দিয়েছে এবং মধ্যপন্থা অনুসরনের কথা বলেছে। ইসলাম ধর্ম যৌন আকাংখাকে মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বলে মনে করে,যা মানব সমাজ টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য। তবে এই সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। নারী ও পুরুষের মধ্যে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে এই সম্পর্ক বৈধতা পায় এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসে। এ কারণে রাসূল (সাঃ) বিয়ে করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন,যাতে সমাজে অনাচার ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে না পড়ে।
বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে সব সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই ছিল এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের কোন কোন মতবাদে যুদ্ধ ও আধিপত্য বিস্তারকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। নাৎসীবাদ, ইহুদিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ এ ধরনের নীতিকে সমর্থন করে। এই নীতির কারণে এ পর্যন্ত বিশ্বে ব্যাপক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর বাইরেও অনেক ধর্ম ও মতবাদ শত্রু তথা আগ্রাসীদের মোকাবেলায় আপোষকামিতা ও নমনীয়তা প্রদর্শনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম এক্ষেত্রেও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা উপন্থাপন করেছে। ভারসাম্যপুর্ণ ধর্ম হিসেবে ইসলাম, মানুষকে পারস্পরিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। পবিত্র কোরআনে সকল ঐশী ধর্মের অনুসারীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সমঝোতার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ইসলাম জুলুম ও অত্যারের ঘোর বিরোধী।
ইসলাম আগ্রাসী ও আধিপত্যকামী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। যুদ্ধ-বিগ্রহ বেধে গেলে কী করতে হবে, সে ব্যাপারেও ইসলাম দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ইসলাম এক্ষেত্রে সীমা-পরিসীমা ঠিক করে দিয়েছে যাতে হিংসা-বিদ্বেষ ও যুদ্ধ আরও বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে না পড়ে। কাজেই ইসলাম যুদ্ধের ময়দানেও ইনসাফ ও ভারসাম্যতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। সুরা বাকারার ১৯৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, "যারা তোমাদের উপর জবরদস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার বা সংযমী, আল্লাহ্ তাদের সাথে রয়েছেন।"
ইসলাম সর্বক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেও পাশ্চাত্যের দেশগুলো এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ উল্টো তথ্য পরিবেশন করছে। তারা ইসলাম ধর্মকে উগ্রতা ও চরমপন্থার উৎস হিসেবে প্রচার চালাচ্ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রতিদিনই মুসলমানদেরকে হিংস্র ও পশ্চাৎপদ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তারা এ ক্ষেত্রে আল কায়েদা ও তালেবানের মতো গোড়া ও সহিংসতাকামী গোষ্ঠীকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব গোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পাশ্চাত্য ও তাদের মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সৃষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া, অল্প সংখ্যক মুসলমানের অন্যায় আচরনের মাধ্যমে কোটি কোটি মুসলমানকে উগ্রবাদী হিসেবে তুলে ধরা কখনোই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। আসলে ইসলামের প্রকৃত বাণী উপলব্ধি করতে হলে এর মূলে যেতে হবে। বিপথগামীদের মাধ্যমে ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধকে উপলব্ধির চেষ্টা করা হলে এ ব্যাপারে ভুল বুঝার আশংকা শতভাগ।
ইসলামের দৃষ্টিতে শান্তি ও কল্যাণের সরল পথ হলো ভারসাম্যতা। চরমপন্থা সব সময় মানুষকে সঠিক পথকে বিচ্যুত করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মুসলমানরা সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে সমৃদ্ধ সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। ইসলামের সোনালী যুগে ফিরে যেতে হলে আমাদেরকে আবারও এ পথেই এগোতে হবে। আমাদেরকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক গোঁড়ামি, উগ্র মনোভাব, চরমপন্থা ও বাড়াবাড়ির মতো নেতিবাচক দিকগুলোকে পরিহার করতে হবে,কারণ ইসলাম ধর্ম এসবের ঘোর বিরোধী।
Source : http://bangla.irib.ir/index.php?option=com_content&task=view&id=12075&Itemid=83
জোনাকী রাতের শেষে...আশাবাদী ভোর / দিন শেষে রাত আনে...স্বপ্নের'ই ঘোর / এইযে রাত-দিন সীমাহীন...কতো আশা / মনে জাগে কি সোহাগে...কতো না ভালোবাসা... / ...প্রিয়ো দেশ আমার...বাংলাদেশ... / ...জন্মভূমি আমার...প্রিয়ো বাংলাদেশ... (গানঃ পারভেজ)
Sunday, August 23, 2009
রমজানের দোয়া

১ম রমজানের দোয়া
اليوم الاوّل : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ صِيامي فيهِ صِيامَ الصّائِمينَ، وَقِيامي فيهِ قيامَ الْقائِمينَ، وَنَبِّهْني فيهِ عَنْ نَوْمَةِ الْغافِلينَ، وَهَبْ لى جُرْمي فيهِ يا اِلـهَ الْعالَمينَ، وَاعْفُ عَنّي يا عافِياً عَنْ الُْمجْرِمينَ .
হে আল্লাহ ! আমার আজকের রোজাকে প্রকৃত রোজাদারদের রোজা হিসেবে গ্রহণ কর। আমার নামাজকে কবুল কর প্রকৃত নামাজীদের নামাজ হিসেবে। আমাকে জাগিয়ে তোলো গাফিলতির ঘুম থেকে। হে জগত সমূহের প্রতিপালক! এদিনে আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। ক্ষমা করে দাও আমার যাবতীয় অপরাধ। হে অপরাধীদের অপরাধ ক্ষমাকারী।
২য় রমজানের দোয়া
اليوم الثّاني : اَللّـهُمَّ قَرِّبْني فيهِ اِلى مَرْضاتِكَ، وَجَنِّبْني فيهِ مِنْ سَخَطِكَ وَنَقِماتِكَ، وَوَفِّقْني فيهِ لِقِرآءَةِ ايـاتِكَ بِرَحْمَتِكَ يا اَرْحَمَ الرّاحِمينَ .
হে আল্লাহ! তোমার রহমতের উসিলায় আজ আমাকে তোমার সন্তুষ্টির কাছাকাছি নিয়ে যাও। দূরে সরিয়ে দাও তোমার ক্রোধ আর গজব থেকে । আমাকে তৌফিক দাও তোমার পবিত্র কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করার । হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াময়।
৩য় রমজানের দোয়া
اليوم الثّالث : اَللّـهُمَّ ارْزُقْني فيهِ الذِّهْنَ وَالتَّنْبيهَ، وَباعِدْني فيهِ مِنَ السَّفاهَةِ وَالَّتمْويهِ، وَاجْعَلْ لى نَصيباً مِنْ كُلِّ خَيْر تُنْزِلُ فيهِ، بِجُودِكَ يا اَجْوَدَ الاَْجْوَدينَ .
হে আল্লাহ ! আজকের দিনে আমাকে সচেতনতা ও বিচক্ষণতা দান কর। আমাকে দূরে রাখ অজ্ঞতা , নির্বুদ্ধিতা ও ভ্রান্ত কাজ-কর্ম থেকে। এ দিনে যত ধরণের কল্যাণ দান করবে তার প্রত্যেকটি থেকে তোমার দয়ার উসিলায় আমাকে উপকৃত কর। হে দানশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম দানশীল।
৪র্থ রমজানের দোয়া
اليوم الرّابع : اَللّـهُمَّ قَوِّني فيهِ عَلى اِقامَةِ اَمْرِكَ، وَاَذِقْني فيهِ حَلاوَةَ ذِكْرِكَ، وَاَوْزِعْني فيهِ لاَِداءِ شُكْرِكَ بِكَرَمِكَ، وَاحْفَظْني فيهِ بِحِفْظِكَ وَسَتْرِكَ، يا اَبْصَرَ النّاظِرينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার নির্দেশ পালনের শক্তি দাও। তোমার জিকিরের মাধুর্য আমাকে আস্বাদন করাও। তোমার অপার করুণার মাধ্যমে আমাকে তোমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুত কর । হে দৃষ্টিমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিমান। আমাকে এ দিনে তোমারই আশ্রয় ও হেফাজতে রক্ষা কর।
৫ম রমজানের দোয়া
اليوم الخامس : اَللّـهُمَّ اجْعَلْني فيهِ مِنْ الْمُسْتَغْفِرينَ، وَاجْعَلْني فيهِ مِنْ عِبادِكَ الصّالِحينَ اْلقانِتينَ، وَاجْعَلني فيهِ مِنْ اَوْلِيائِكَ الْمُقَرَّبينَ، بِرَأْفَتِكَ يا اَرْحَمَ الرّاحِمينَ .
হে আল্লাহ ! এই দিনে আমাকে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর। আমাকে শামিল কর তোমার সৎ ও অনুগত বান্দাদের কাতারে । হে আল্লাহ ! মেহেরবানী করে আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর। হে দয়াবানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান ।
৬ষ্ঠ রমজানের দোয়া
اليوم السّادس : اَللّـهُمَّ لا تَخْذُلْني فيهِ لِتَعَرُّضِ مَعْصِيَتِكَ، وَلاتَضْرِبْني بِسِياطِ نَقِمَتِكَ، وَزَحْزِحْني فيهِ مِنْ مُوجِباتِ سَخَطِكَ، بِمَنِّكَ وَاَياديكَ يا مُنْتَهى رَغْبَةِ الرّاغِبينَ .
হে আল্লাহ ! তোমার নির্দেশ অমান্য করার কারণে এ দিনে আমায় লাঞ্চিত ও অপদস্থ করোনা । তোমার ক্রোধের চাবুক দিয়ে আমাকে শাস্তি দিওনা । সৃষ্টির প্রতি তোমার অসীম অনুগ্রহ আর নিয়ামতের শপথ করে বলছি তোমার ক্রোধ সৃষ্টিকারী কাজ থেকে আমাকে দূরে রাখো । হে আবেদনকারীদের আবেদন কবুলের চূড়ান্ত উৎস ।
৭ম রমজানের দোয়া
اليوم السّابع : اَللّـهُمَّ اَعِنّي فِيهِ عَلى صِيامِهِ وَقِيامِهِ، وَجَنِّبْني فيهِ مِنْ هَفَواتِهِ وَآثامِهِ، وَارْزُقْني فيهِ ذِكْرَكَ بِدَوامِهِ، بِتَوْفيقِكَ يا هادِيَ الْمُضِلّينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে রোজা পালন ও নামাজ কায়েমে সাহায্য কর । আমাকে অন্যায় কাজ ও সব গুনাহ থেকে রক্ষা করো । তোমার তৌফিক ও শক্তিতে সবসময় আমাকে তোমার স্মরণে থাকার সুযোগ দাও । হে পথ হারাদের পথ প্রদর্শনকারী ।
৮ম রমজানের দোয়া
اليوم الثّامن : اَللّـهُمَّ ارْزُقْني فيهِ رَحْمَةَ الاَْيْتامِ، وَاِطْعامَ اَلطَّعامِ، وَاِفْشاءَ السَّلامِ، وَصُحْبَةَ الْكِرامِ، بِطَولِكَ يا مَلْجَاَ الاْمِلينَ .
হে আল্লাহ ! তোমার উদারতার উসিলায় এ দিনে আমাকে এতিমদের প্রতি দয়া করার, ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করার, শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ও সৎ ব্যক্তিদের সাহায্য লাভ করার তৌফিক দাও । হে আকাঙ্খাকারীদের আশ্রয়স্থল ।
৯ম রমজানের দোয়া
اليوم التّاسع : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ لي فيهِ نَصيباً مِنْ رَحْمَتِكَ الْواسِعَةِ، وَاهْدِني فيهِ لِبَراهينِكَ السّاطِعَةِ، وَخُذْ بِناصِيَتي اِلى مَرْضاتِكَ الْجامِعَةِ، بِمَحَبَّتِكَ يا اَمَلَ الْمُشْتاقينَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে তোমার রহমতের অধিকারী কর । আমাকে পরিচালিত কর তোমার উজ্জ্বল প্রমাণের দিকে । হে আগ্রহীদের লক্ষ্যস্থল । তোমার ভালোবাসা ও মহব্বতের উসিলায় আমাকে তোমার পূর্ণাঙ্গ সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যাও ।
১০ম রমজানের দোয়া
اليوم العاشر : اَللّـهُمَّ اجْعَلْني فيهِ مِنَ الْمُتَوَكِّلينَ عَلَيْكَ، وَاجْعَلْني فيهِ مِنَ الْفائِزينَ لَدَيْكَ، وَاجْعَلْني فيهِ مِنَ الْمُقَرَّبينَ اِلَيْكَ، بِاِحْسانِكَ يا غايَةَ الطّالِبينَ .
হে আল্লাহ ! তোমার প্রতি যারা ভরসা করেছে আমাকে সেই ভরসাকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর । তোমার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে শামিল করো সফলকামদের মধ্যে এবং আমাকে তোমার নৈকট্যলাভকারী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নাও । হে অনুসন্ধানকারীদের শেষ গন্তব্য ।
১১তম রমজানের দোয়া
اليوم الحادي عشر : اَللّـهُمَّ حَبِّبْ اِلَيَّ فيهِ الاِْحْسانَ، وَكَرِّهْ اِلَيَّ فيهِ الْفُسُوقَ وَالْعِصْيانَ، وَحَرِّمْ عَلَيَّ فيهِ السَّخَطَ وَالنّيرانَ بِعَوْنِكَ يا غِياثَ الْمُسْتَغيثينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে সৎ কাজকে আমার কাছে প্রিয় করে দাও আর অন্যায় ও নাফরমানীকে অপছন্দনীয় কর । তোমার অনুগ্রহের উসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও । হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী ।
১২ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّاني عشر : اَللّـهُمَّ زَيِّنّي فيهِ بِالسِّتْرِ وَالْعَفافِ، وَاسْتُرْني فيهِ بِلِباسِ الْقُنُوعِ وَالْكَفافِ، وَاحْمِلْني فيهِ عَلَى الْعَدْلِ وَالاِْنْصافِ، وَآمِنّي فيهِ مِنْ كُلِّ ما اَخافُ، بِعِصْمَتِكَ يا عِصْمَةَ الْخائِفينَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে আত্মিক পবিত্রতার অলঙ্কারে ভূষিত কর । অল্পে তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির পোশাকে আবৃত্ত কর । ন্যায় ও ইনসাফে আমাকে সুসজ্জিত কর । তোমার পবিত্রতার উসিলায় আমাকে ভীতিকর সবকিছু থেকে নিরাপদে রাখ । হে খোদা ভীরুদের রক্ষাকারী ।
১৩ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّالث عشر : اَللّـهُمَّ طَهِّرْني فيهِ مِنَ الدَّنَسِ وَالاَْقْذارِ، وَصَبِّرْني فيهِ عَلى كائِناتِ الاَْقْدارِ، وَوَفِّقْني فيهِ لِلتُّقى وَصُحْبَةِ الاَْبْرارِ، بِعَوْنِكَ يا قُرَّةَ عَيْنِ الْمَساكينَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র কর । যা কিছু তকদীর অনুযায়ী হয় তা মেনে চলার ধৈর্য আমাকে দান কর । তোমার বিশেষ অনুগ্রহে আমাকে তাকওয়া অর্জন এবং সৎ কর্মশীলদের সাহচর্যে থাকার তৌফিক দাও । হে অসহায়দের আশ্রয়দাতা ।
১৪ তম রমজানের দোয়া
اليوم الرّابع عشر : اَللّـهُمَّ لا تُؤاخِذْني فيهِ بِالْعَثَراتِ، وَاَقِلْني فيهِ مِنَ الْخَطايا وَالْهَفَواتِ، وَلا تَجْعَلْني فيهِ غَرَضاً لِلْبَلايا وَالاْفاتِ، بِعِزَّتِكَ يا عِزَّ الْمُسْلِمينَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে আমার ভ্রান্তির জন্যে জিজ্ঞাসাবাদ করো না । আমার দোষ-ত্রুটিকে হিসেবের মধ্যে ধরো না ।তোমার মর্যাদার উসিলায় আমাকে বিপদ-আপদ ও দুর্যোগের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করো না । হে মুসলমানদের মর্যাদা দানকারী।
১৫ তম রমজানের দোয়া
اليوم الخامس عشر : اَللّـهُمَّ ارْزُقْني فيهِ طاعَةَ الْخاشِعينَ، وَاشْرَحْ فيهِ صَدْري بِاِنابَةِ الُْمخْبِتينَ، بِاَمانِكَ يا اَمانَ الْخائِفينَ .
হে আল্লাহ ! এদিনে আমাকে তোমার বিনয়ী বান্দাদের মতো আনুগত্য করার তৌফিক দাও । তোমার আশ্রয় ও হেফাজতের উসিলায় আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে খোদাভীরু ও বিনয়ী বান্দাদের অন্তরে পরিণত কর । হে খোদাভীরু মুত্তাকীদের আশ্রয়দাতা ।
১৬ তম রমজানের দোয়া
اليوم السّادس عشر : اَللّـهُمَّ وَفِّقْني فيهِ لِمُوافَقَةِ الاَْبْرارِ، وَجَنِّبْني فيهِ مُرافَقَةَ الاَْشْرارِ، وَآوِني فيهِ بِرَحْمَتِكَ اِلى دارِ الْقَـرارِ، بِاِلهِيَّتِكَ يا اِلـهَ الْعالَمينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার সৎবান্দাদের সাহচর্য লাভের তৌফিক দাও। আমাকে মন্দ লোকদের সাথে বন্ধুত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখো। তোমার খোদায়ীত্বের শপথ করে বলছি, আমাকে তোমার রহমতের বেহেশতে স্থান দাও। হে জগতসমূহের প্রতিপালক।
১৭ তম রমজানের দোয়া
اليوم السّابع عشر : اَللّـهُمَّ اهْدِني فيهِ لِصالِحِ الاَْعْمالِ، وَاقْضِ لي فيهِ الْحَوائِجَ وَالاْمالَ، يا مَنْ لا يَحْتاجُ اِلَى التَّفْسيرِ وَالسُّؤالِ، يا عالِماً بِما في صُدُورِ الْعالَمينَ، صَلِّ عَلى مُحَمَّد وَآلِهِ الطّاهِرينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে সৎকাজের দিকে পরিচালিত কর। হে মহান সত্ত্বা যার কাছে প্রয়োজনের কথা বলার ও ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার হয় না । আমার সব প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে দাও। হে তাবত দুনিয়ার রহস্যজ্ঞানী ! হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর রহমত বষর্ণ কর।
১৮ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّامن عشر : اَللّـهُمَّ نَبِّهْني فيهِ لِبَرَكاتِ اَسْحارِهِ، وَنَوِّرْ فيهِ قَلْبي بِضياءِ اَنْوارِهِ، وَخُذْ بِكُلِّ اَعْضائي اِلَى اتِّباعِ آثارِهِ، بِنُورِكَ يا مُنَوِّرَ قُلُوبِ الْعارِفينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে সেহরীর বরকতের উসিলায় সচেতন ও জাগ্রত করে তোল। সেহরীর নূরের ঔজ্জ্বল্যে আমার অন্তরকে আলোকিত করে দাও। তোমার নূরের উসিলায় আমার প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গে তোমার নূরের প্রভাব বিকশিত কর। হে সাধকদের অন্তর আলোকিতকারী !
১৯ তম রমজানের দোয়া
اليوم التّاسع عشر : اَللّـهُمَّ وَفِّرْ فيهِ حَظّي مِنْ بَرَكاتِهِ، وَسَهِّلْ سَبيلي اِلى خَيْراتِهِ، وَلا تَحْرِمْني قَبُولَ حَسَناتِهِ، يا هادِياً اِلَى الْحَقِّ الْمُبينِ .
হে আল্লাহ ! আমাকে এ মাসের বরকতের অধিকারী কর। এর কল্যাণ অজর্নের পথ আমার জন্য সহজ করে দাও। এ মাসের কল্যাণ লাভ থেকে আমাকে বঞ্চিত করো না। হে স্পষ্ট সত্যের দিকে পথো নির্দেশকারী।
২০ তম রমজানের দোয়া
اليوم العشرون : اَللّـهُمَّ افْتَحْ لي فيهِ اَبْوابَ الْجِنانِ، وَاَغْلِقْ عَنّي فيهِ اَبْوابَ النّيرانِ، وَوَفِّقْني فيهِ لِتِلاوَةِ الْقُرْآنِ، يا مُنْزِلَ السَّكينَةِ فى قُلُوبِ الْمُؤْمِنينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমার জন্যে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দাও এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। আমাকে কোরআন তেলাওয়াতের তৌফিক দান কর। হে ঈমানদারদের অন্তরে প্রশান্তি দানকারী।
২১ তম রমজানের দোয়া
اليوم الحادي والعشرون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ لى فيهِ اِلى مَرْضاتِكَ دَليلاً، وَلا تَجْعَلْ لِلشَّيْطانِ فيهِ عَلَيَّ سَبيلاً، وَاجْعَلِ الْجَنَّةَ لى مَنْزِلاً وَمَقيلاً، يا قاضِيَ حَوائِجِ الطّالِبينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত কর। শয়তানদের আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিওনা। জান্নাতকে আমার গন্তব্যে পরিণত কর। হে প্রার্থনাকারীদের অভাব মোচনকারী ।
২২ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّاني والعشرون : اَللّـهُمَّ افْتَحْ لى فيهِ اَبْوابَ فَضْلِكَ، وَاَنْزِلْ عَلَيَّ فيهِ بَرَكاتِكَ، وَوَفِّقْني فيهِ لِمُوجِباتِ مَرْضاتِكَ، وَاَسْكِنّي فيهِ بُحْبُوحاتِ جَنّاتِكَ، يا مُجيبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرّينَ .
হে আল্লাহ ! আজ তোমার করুণা ও রহমতের দরজা আমার সামনে খুলে দাও এবং বরকত নাজিল কর । আমাকে তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দাও। তোমার বেহেশতের বাগানের মাঝে আমাকে স্থান করে দাও। হে অসহায়দের দোয়া কবুলকারী।
২৩ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّالث والعشرون : اَللّـهُمَّ اغْسِلْني فيهِ مِنَ الذُّنُوبِ، وَطَهِّرْني فيهِ مِنَ الْعُيُوبِ، وَامْتَحِنْ قَلْبي فيهِ بِتَقْوَى الْقُلُوبِ، يا مُقيلَ عَثَراتِ الْمُذْنِبينَ .
হে আল্লাহ ! আমার সকল গুনাহ ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দাও। আমাকে সব দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র কর। তাকওয়া ও খোদাভীতির মাধ্যমে আমার অন্তরকে সকল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ কর। হে অপরাধীদের ভুল-ত্রুটি মার্জনাকারী।
২৪ তম রমজানের দোয়া
اليوم الرّابع والعشرون : اَللّـهُمَّ اِنّي اَسْأَلُكَ فيهِ ما يُرْضيكَ، وَاَعُوذُبِكَ مِمّا يُؤْذيكَ، وَاَسْأَلُكَ التَّوْفيقَ فيهِ لاَِنْ اُطيعَكَ وَلا اَعْصيْكَ، يا جَوادَ السّائِلينَ .
হে আল্লাহ ! আজ তোমার কাছে ঐসব আবেদন করছি যার মধ্যে তোমার সন্তুষ্টি রয়েছে। যা কিছু তোমার কাছে অপছন্দনীয় তা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। তোমারই আনুগত্য করার এবং তোমার নাফরমানী থেকে বিরত থাকার তৌফিক দাও। হে প্রার্থীদের প্রতি দানশীল।
২৫ তম রমজানের দোয়া
اليوم الخامس والعشرون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْني فيهِ مُحِبَّاً لاَِوْلِيائِكَ، وَمُعادِياً لاَِعْدائِكَ، مُسْتَنّاً بِسُنَّةِ خاتَمِ اَنْبِيائِكَ، يا عاصِمَ قُلُوبِ النَّبِيّينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে তোমার বন্ধুদের বন্ধু এবং তোমার শত্রুদের শত্রু করে দাও। তোমার আখেরী নবীর সুন্নত ও পথ অনুযায়ী চলার তৌফিক আমাকে দান কর। হে নবীদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষাকারী।
২৬ তম রমজানের দোয়া
اليوم السّادس والعشرون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ سَعْيي فيهِ مَشْكُوراً، وَذَنْبي فيهِ مَغْفُوراً وَعَمَلي فيهِ مَقْبُولاً، وَعَيْبي فيهِ مَسْتُوراً، يا اَسْمَعَ السّامِعينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমার প্রচেষ্টাকে গ্রহণ করে নাও। আমার সব গুনাহ মাফ করে দাও। আমার সব আমল কাজ কবুল করো এবং সব দোষ-ত্রু টি ঢেকে রাখ। হে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা।
২৭ তম রমজানের দোয়া
اليوم السّابع والعشرون : اَللّـهُمَّ ارْزُقْني فيهِ فَضْلَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَصَيِّرْ اُمُوري فيهِ مِنَ الْعُسْرِ اِلَى الْيُسْرِ، وَاقْبَلْ مَعاذيري، وَحُطَّ عَنّيِ الذَّنْبَ وَالْوِزْرَ، يا رَؤوفاً بِعِبادِهِ الصّالِحينَ
হে আল্লাহ ! আজকের দিনে আমাকে শবেকদরের ফজিলত দান কর। আমার কাজ কর্মকে কঠিন থেকে সহজের দিকে নিয়ে যাও। আমার অক্ষমতা কবুল কর এবং ক্ষমা করে দাও আমার সব অপরাধ। হে যোগ্য বান্দাদের প্রতি মেহেরবান।
২৮ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثّامن والعشرون : اَللّـهُمَّ وَفِّرْ حَظّي فيهِ مِنَ النَّوافِلِ، وَاَكْرِمْني فيهِ بِاِحْضارِ الْمَسائِلِ، وَقَرِّبْ فيهِ وَسيلَتى اِلَيْكَ مِنْ بَيْنِ الْوَسائِلِ، يا مَنْ لا يَشْغَلُهُ اِلْحـاحُ الْمُلِحّينَ .
হে আল্লাহ ! এ দিনে আমাকে নফল এবাদতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত কর। তোমার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্যে সহজ করে দাও। হে পবিত্র সত্ত্বা ! যাকে, অনুরোধকারীদের কোন আবেদন নিবেদন , ন্যায়বিচার থেকে টলাতে পারে না।
২৯ তম রমজানের দোয়া
اليوم التّاسع والعشرون : اَللّـهُمَّ غَشِّني فيهِ بِالرَّحْمَةِ، وَارْزُقْني فيهِ التَّوْفيقَ وَالْعِصْمَةَ، وَطَهِّرْ قَلْبي مِنْ غَياهِبِ التُّهْمَةِ، يا رَحيماً بِعِبادِهِ الْمُؤْمِنينَ .
হে আল্লাহ ! আজ আমাকে তোমার রহমত দিয়ে ঢেকে দাও। গুনাহ থেকে মুক্তিসহ আমাকে সাফল্য দান কর। আমার অন্তরকে মুক্ত কর অভিযোগ ও সন্দেহের কালিমা থেকে । হে ঈমানদার বান্দাদের প্রতি দয়াবান।
৩০ তম রমজানের দোয়া
اليوم الثلاثون : اَللّـهُمَّ اجْعَلْ صِيامى فيهِ بِالشُّكْرِ وَالْقَبُولِ عَلى ما تَرْضاهُ وَيَرْضاهُ الرَّسُولُ، مُحْكَمَةً فُرُوعُهُ بِالاُْصُولِ، بِحَقِّ سَيِّدِنا مُحَمَّد وَآلِهِ الطّاهِرينَ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعالَمينَ .
হে আল্লাহ ! তুমি ও তোমার রাসুল ঠিক যেমনিভাবে খুশি হবে তেমনি করে আমার রোজাকে পুরস্কৃত কর এবং কবুল করে নাও। আমাদের নেতা হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও তার পবিত্র বংশধরদের উসিলায় আমার সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলকে মূল এবাদতের সাথে যোগ করে শক্তিশালী কর। আর সব প্রশংসা ও স্তুতি জগতসমূহের প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহর।
Source : http://bangla.irib.ir/index.php?option=com_content&task=view&id=5546&Itemid=78
Subscribe to:
Posts (Atom)


